রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬

ঝুমকো জবা

ঝুমকো জবা বনের দুল
উঠল ফুটে বনের ফুল।
সবুজ পাতা ঘোমটা খোলে,
ঝুমকো জবা হাওয়ায় দোলে।
সেই দুলুনির তালে তালে,
মন উড়ে যায় ডালে ডালে।


করবী

'যখন বিদায়-বাঁশির সুরে সুরে
শুকনো পাতা যাবে উড়ে সঙ্গে কে র'বি ।'
'আমি রব, উদাস হব ওগো উদাসী,
আমি তরুণ করবী ।'
~রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 


  করবী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গাছ। সম্পূর্ণ গাছ বিষাক্ত। সুন্দর ফুলের জন্য বাগানে লাগানো হয়। লাল(রক্তকরবী), সাদা(শ্বেতকরবী) আর গোলাপি রঙের ফুল গাছ পাওয়া যায়।
গাছ সাধারণত গোড়া থেকে ওঠা অনেকগুলো ডালের একটি ঝোপ তৈরি করে। ডালের উপরের দিকে পাতা থাকে আর থাকে পাঁচ পাপড়ির ফুল। গোলাপি রঙের করবী ফুলের ডাবল ফুলের জাত আছে, একে বলে পদ্মকরবী। পদ্মকরবীর পাপড়ি অনেকগুলো, দেখতেও সুন্দর। প্রায় সারা বছরই করবী ফুল ফোটে। গাছের মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল- সবই বিষাক্ত।

বৈজ্ঞানিক নাম- Nerium oleander(Syn. Nerium indicum)
পরিবার- Apocynaceae
অন্যান্য নাম- Oleander, nerium Nerium গণের একমাত্র প্রজাতি Nerium oleander।

শ্বেতাম্বরী রুক্মিণী


রঙ্গনের আরেক নাম রুক্মিণী। উদ্ভিদবিদ্যায় নাম Ixora। আমাদের ছবির ফুলটি Ixora perviflora হবে। এর উচ্চতা আট-দশ হাত হবে। উচ্চতার বিচারে এর বেশির ভাগ গাছ ছোট গুল্মজাতীয় গাছের আওতায় পড়বে। এর প্রজাতির সংখ্যা প্রচুর।



চিরাচরিত রঙ্গনের ফোটার সময় গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল। এদের সবার ফুল ফোটে থোকায় থোকায়। একেকটি থোকায়  প্রচুর ফুল থাকে । ফুল ফোটা শেষ হয়ে গেলে গাছ হালকাভাবে ছেঁটে দেওয়া উচিত ।

রঙ্গনের ফোটার সময় গ্রীষ্ম হলেও সুরভি রঙ্গন ফোটে বসন্তে। সুরভি রঙ্গনের ফুলের থোকায় অনেক মরা ফুল। থোকায় বেশি ফুল মননিবন্ধ থাকে বলে বাসি ফুলগুলো ঝরে পড়তে পারে না। আটকে থাকে। সুরভি রঙ্গন ও লাল রঙ্গনের খুব ভালো বেড়া, ঘন-ছোট ঝোপ করা যায়। আবার নয়-দশ ইঞ্চি করে কেটে মোটা গুঁড়ি করে ফুল ফোটানো রঙ্গনের সৌন্দর্যের খুব কদর।

 আমি যখন ক্লাস এইট এ পড়ি ,তখন আমাদের স্কুল জিরাট কলোনী হাই স্কুলে মাস্টারমশাইদের সহযোগিতায় আমরা  বাগান করলাম, নাম দেওয়া হলো ,রবীন্দ্র উদ্যান,নজরুল উদ্যান ও সুকান্ত উদ্যান। টিচার্স রুমের ঠিক সামনে লাগান হলো একটি সুরভিত সাদা রঙ্গনের গাছ , আমরা স্কুল ছেড়ে চলে আসার পর ও অনেকদিন সেই বাগান ছিল , কমতে কমতে এখন সেই তিনটি উদ্যানের আর অস্তিত্ব নেই।

জাতীয় গাছ বট

"এই বাংলার মাঠে
বিশীর্ণ বটের নিচে শুয়ে রবো; পশমের মতো লাল ফল
ঝরিবে বিজন ঘাসে,-------------



 বট গাছ,( ফিকাস বেংগালেনসিস) আমাদের জাতীয় গাছ। এর শাখা থেকে শিকড় বেড়িয়ে নতুন গাছের আকারে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে যায়। শিকড় থেকে আবার গুঁড়ি এবং শাখা বেরিয়ে নতুন গুঁড়ি এবং শাখার জন্ম দেয়। এই বৈশিষ্ট্যর জন্য এবং বহু দিন বাঁচার ফলে এই গাছকে অমর মনে করা হয় এবং পুরাণ ও গল্পে একে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়। আজও বট গাছ গ্রামীণ জীবনের কেন্দ্রবিন্দু এবং গ্রামসভা এই গাছের ছায়াতেই বসে।

  " কী শোভা ,কি ছায়া গো,কী স্নেহ কী মায়া গো -----
  কী আঁচল বিছায়েছ ,বটের মূলে ,নদীর কূলে।" .............


বটগাছ নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন “লুটিয়ে পড়ে জটিল জটা, ঘন পাতায় গহন ঘটা, হেথা-হোথায় রবির ছটা পুকুর ধারে বট।” জীবনানন্দ দাশ বটের ছায়ায় বিজন ঘাসে শুয়ে প্রকৃতিকে কাছে পেয়েছেন। ভাওয়াইয়া গানের কথায় ‘বট বৃক্ষের ছায়া যেমন রে মোর বন্ধুর মায়া তেমন রে...।’দেশাত্মবোধক গানেও এসেছে বট ‘আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা অঘ্রাণে নবান্নের উৎসবে...।’ গ্রীষ্মের দুপুরে কৃষক ও গ্রামের লোকের যখন হাঁসফাঁস অবস্থা তখন প্রকৃতির এ বটগাছই তাদের দিত স্বস্তি।নগরে-মহানগরে উচ্চবিত্তের অনেকে বহু টাকা ব্যয়ে বনসাই বটগাছ কিনে এনে ড্রইংরুমে রেখে দেন।
  ফাইকাস বা (ডুমুর জাতীয়) গোত্রের ইউরোস্টিগ্মা উপগোত্রের সদস্য। এর আদি নিবাস হল বঙ্গভূমি (বাংলাভাষী অঞ্চল)। এটি একটি বৃহদাকার বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। বট গাছ খুব বড় জায়গা জুড়ে জমির সমান্তরাল শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে যারা স্তম্ভমূলের উপর ভর দিয়ে থাকে। স্তম্ভমূল প্রথমে সরু সরু ঝুরি হিসবে বাতাসে ঝোলে। পরে মাটিতে প্রেথিত হলে স্তম্ভমূলের মাটির উপরের অংশ বিটপে পরিবর্তিত হয়।
 বটের পাতা একান্তর, ডিম্বাকৃতি, মসৃণ ও উজ্জ্বল সবুজ। কচি পাতা তামাটে। স্থান-কাল-পাত্রভেদে পাতার আয়তনের বিভিন্নতা একাধারে বটের বৈশিষ্ট্য তথা প্রজাতি শনাক্তকরণের পক্ষে জটিলতার কারনও। পরিণত গাছের পাতা আকারে কিছুটা ছোট হয়ে আসে। বটের কুঁড়ি পাংশুটে হলুদ এবং এর দুটি স্বল্পায়ু উপপত্র পাতা গজানোর পরই ঝরে পড়ে। খুব অল্প বয়স থেকেই বট গাছের ঝুরি নামতে শুরু করে। মাটির সমান্তরালে বাড়তে থাকা ডালপালার ঝুরিগুলো একসময় মাটিতে গেঁথে গিয়ে নিজেরাই একেকটা কান্ডে পরিণত হয়। এভাবেই বট গাছ ধীরে ধীরে চারপাশে বাড়তে থকে এবং একসময় মহীরুহে পরিণত হয়। বসন্ত ও শরৎ বট গাছে নতুন পাতা গজানোর দিন। এসময় কচি পাতার রং উজ্জ্বল সবুজ থাকে। গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত হলো ফল পাকার সময়।
 বট ও বট জাতীয় গাছের বংশ বৃদ্ধির পদ্ধতি ও কৌশল প্রধাণত অভিন্ন। মঞ্জরির গর্ভে ফুলগুলো লুকানো থাকে। ফুলগুলো খুবই ছোট এবং ফলের মতোই গোল। একলিঙ্গিক এই ফুলগুলো পরাগায়নের জন্য বিশেষ জাতের পতঙ্গের উপর নির্ভরশীল। পাখিরা ফল খেয়ে বীজ ছড়িয়ে দেয়। পাখিবাহিত এই বীজ দালানের কার্নিশ, পুরানো দালানের ফাটল ও অন্য কোন গাছের কোটরে সহজেই অঙ্কুরিত হয় এবং আশ্রয়কে গ্রাস করে। এ কারনে উপগাছা হিসেবেও বটের বেশ খ্যাতি আছে। উপযুক্ত পরিবেশে একটি বট গাছ ৫ থেকে ৬ শত বছর বেঁচে থাকতে পারে।



 বট বাংলা অঞ্চলের আদিমতম বৃক্ষ। বট গাছকে ঘিরে বাংলা অঞ্চলের রয়েছে শত-সহস্র বছরের ঐতিহ্য। উষ্ণ আবহাওয়ায় বিশাল আয়তনের এই ছায়াবৃক্ষটি অনেক উপকারে আসে। প্রাচীনকাল থেকেই বটবৃক্ষের ছায়ায় হাট-বাজার বসে, মেলা হয়, লোকগানের আসর বসে, জনসভা হয়। কারন হিসেবে বলা যায়, বাংলার গ্রামাঞ্চলে বড় বড় সুশীতল হলরুম নেই। আর তাই বড় বড় অনুষ্ঠান ও জনসভাগুলো ছায়াসুনিবিড় বটতলায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।এই গাছকে ভারতে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়,এবং প্রায়ই এই গাছের নিচে মন্দির বানানো হয়। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে ধর্মীয় কারনে বট গাছ কাটা নিষিদ্ধ। এ গাছের উপকারিতা ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারনে বট গাছ ভারতের জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে।

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

শিরিষ


  প্রাঙ্গণে মোর শিরীষশাখায় ফাগুন মাসে
                   কী উচ্ছ্বাসে
          ক্লান্তিবিহীন ফুল ফোটানোর খেলা।
              ক্ষান্তকূজন শান্তবিজন সন্ধ্যাবেলা
প্রত্যহ সেই ফুল্ল শিরীষ প্রশ্ন শুধায় আমায় দেখি
              'এসেছে কি-- এসেছে কি।'
   
          আর বছরেই এমনি দিনেই ফাগুন মাসে
                   কী উচ্ছ্বাসে
              নাচের মাতন লাগল শিরীষ-ডালে
                   স্বর্গপুরের কোন্‌ নূপুরের তালে।
প্রত্যহ সেই চঞ্চল প্রাণ শুধিয়েছিল, 'শুনাও দেখি
                   আসে নি কি-- আসে নি কি।'
          আবার কখন এমনি দিনেই ফাগুন মাসে
                   কী আশ্বাসে
          ডালগুলি তার রইবে শ্রবণ পেতে
              অলখ জনের চরণ-শব্দে মেতে।
প্রত্যহ তার মর্মরস্বর বলবে আমায় কী বিশ্বাসে,
              'সে কি আসে-- সে কি আসে।'
   
          প্রশ্ন জানাই পুষ্পবিভোর ফাগুন মাসে
                   কী আশ্বাসে,
          'হায় গো, আমার ভাগ্য-রাতের তারা,
              নিমেষ-গণন হয় নি কি মোর সারা।'
প্রত্যহ বয় প্রাঙ্গণময় বনের বাতাস এলোমেলো--
              'সে কি এল-- সে কি এল।'



বৈজ্ঞানিক নাম- Albizia lebbeck
অন্যান্য নাম- কালো কড়ই, ভূত কড়ই, হারিশ, মড়ই, Woman's tongue, Saras सरस (Hindi), Khok (Manipuri), Lebbek Tree, Flea Tree, Frywood, Koko উল্লেখযোগ্য।

শিরিষ আমাদের দেশি গাছ। অল্পবয়সে মাথাটা ছড়ানো থাকে, পরে লম্বাটে ও প্রকান্ড হয়ে উঠে। পাতা খসিয়ে ন্যাড়া হয়ে যায় শীতের শেষে। রোদে পুড়ে গ্রীষ্মের আগ অবধি। তখন ফুল ফোটে থোকা থোকা, তুলতুলে, ফ্যাকাশে হলুদ, সুগন্ধি। কবিরা শিরিষের খুব ভক্ত। প্রাচীনকালে মেয়েরা শিরিষ কানে পরতেন দুলের মতো করে। মহাকবি কালিদাসের লেখায় তেমন প্রমাণ আছেঃ "অলকচূড়ায় নবকুরুবক, চারু দুটি কানে শিরিষফুল।"

শিরিষ গাছের উচ্চতা ১০০-১২০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। বাকল বাদামি ধূসর, খসখসে এবং অনিয়মিত ফাটলযুক্ত। কাঠ শক্ত। আসবাবপত্র তৈরি, ঘরবাড়ি ও কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে কাঠ ব্যবহৃত হয়। গাছ চেনার একটি সহজ উপায় হচ্ছে- বসন্তে গাছ পাতাশূণ্য হয়ে যায়, এছাড়া গাছের ফল দেখেও চেনা যায়- ৮-১০ সেমি লম্বা এবং ৪-৬ সেমি চওড়া সাদা চ্যপ্টা শুকনো ফল গাছে ঝুলতে থাকে, ফলের মাঝখানে বোতামের মতো গোল গোল বীজের দাগ।

"শিরিষের ডালপালা লেগে আছে বিকেলের মেঘে,
পিপুলের ভরা বুকে চিল নেমে এসেছে এখন;
বিকেলের শিশুসূর্যকে ঘিরে মায়ের আবেগে
করুণ হয়েছে ঝাউবন।

নদীর উজ্জ্বল জল কোরালের মতো কলরবে
ভেসে নারকোলবনে কেড়ে নেয় কোরালীর ভ্রূণ;
বিকেল বলেছে এই নদীটিকেঃ ‘শান্ত হতে হবে-’
অকূল সুপুরিবন স্থির জলে ছায়া ফেলে এক মাইল শান্তি কল্যাণ

হ’য়ে আছে। তার মুখ মনে পড়ে এ-রকম স্নিগ্ধ পৃথিবীর
পাতাপতঙ্গের কাছে চলে এসে; চারিদিকে রাত্রি নক্ষত্রের আলোড়ন
এখন দয়ার মতো; তবুও দয়ার মানে মৃত্যুতে স্থির
হ’য়ে থেকে ভুলে যাওয়া মানুষের সনাতন মন।"
~জীবনানন্দ দাশ










অকৃতজ্ঞ -
.
আমার মৃত্যুর দিনে কৌতূহলী প্রশ্ন করে যদি-
সাধিলাম কি সুকৃতি, হব যার প্রসাদে অমর ?
মেনে নিও মুক্ত কণ্ঠে, নেই মোর পাপের অবধি ;
সারা ইতিহাস খুঁজে মিলিবে না হেন স্বার্থপর ।।
অজস্র ঐশ্বর্য মোরে অর্পিয়াছে সমুদার বিধি ;
ভুঞ্জেছি নিষ্কুন্ঠ মনে সে-সকলই প্রাপ্য ভেবে আমি ।
পেয়েছি অমিত সুধা আমন্থিয়া কালের বারিধি ;
করেছি তা আত্মসাৎ, শুধু বিষ কন্ঠে গেছে থামি ।।
দেখেছি এ-মরচক্ষে নটরাজ মহাশূন্যে নাচে;
শুনেছি পার্থিব কানে সে-নক্ষত্রনুপূরের ধ্বনি।
তথাপি আমার বীণা বাজায়েছে বেসুর পিশাচে ;
অধরার অনুনাদে সাড়া কভু দেয়নি ধমনী।।
ফাল্গুন অঙ্গনে মোর ছড়ায়েছে অশোক পলাশ।
দক্ষিণের বাতায়নে কৃষ্ণচূড়া হেনেছে বৈশাখ ।
জাগায়ে মেদুর মেঘে চপলার চকিত বিলাস
বিকচ কদম্বকুঞ্জে আষাঢ় দিয়েছে মোরে ডাক ।।
শেফালিরঞ্জিত হস্তে নবান্নের নৈবেদ্য এনেছে
অতিক্রমি কাশবন সিতাম্বর শ্যামল আশ্বিন ।
কাননে ছড়ায়ে সোনা উদাসী অঘ্রান চ’লে গেছে
পৌষের পাথেয় দিতে সর্বহারা হয়েছে বিপিন ।।
তথাপি অভাব মোর মিটে নাই মুহূর্তের তরে ;
অপব্যয়ী প্রকৃতির অরক্ষিত দানসত্র থেকে
অপহরি মহাবিত্ত আনিয়াছি বৎসরে বৎসরে
অন্তর্ভৌম কোষাগারে মরুলুপ্ত সুড়ঙ্গের পথে ।।
সে-উদার দৃষ্টান্তেও হয় নাই কার্পণ্য লজ্জিত,
সন্দেহের অবকাশ পায় নাই গৃধ্নুতা আমার।
ফিরেছি ধনীর দ্বারে অপলাপী চীবরে সজ্জিত,
বলেছি নাটকী স্বরে, বিশ্বে শুধু সত্য অবিচার ।।
অন্তরঙ্গ সখাসম ফুলধনু আমার ইঙ্গিতে
ফুটায়েছে পারিজাত হিমরুক্ষ তুঙ্গ তপোবনে ;
স্বয়ংবরা শৈলসুতা এসেছে কৌমার্য নিবেদিতে ;
টুটেছে দুঃস্বপ্ন মোর ব্রহ্মান্ডের মঙ্গলাচরণে ।।
তবু মোর নীল কন্ঠে উঠে নাই কামোদ ঝংকারি;
অনভ্যস্ত রসনায় উৎসরিত হয়নি দীপক ।
মোর প্রিয়সম্ভাষণে বিরহের আশঙ্কা সঞ্চারি,
অন্তরের দ্বার জুড়ে হেসেছে অশ্লীল বিদূষক ।।
গোপন বৈভব আমি ব্যক্ত কভু করিনি প্রিয়ারে ;
বুঝি নাই বিনিময়, বিনা বরে কুড়িয়েছি পূজা;
অভিব্যাপ্ত ক্ষুধা মম অবরোধে ঘিরেছে তাহারে ;
পরিতৃপ্তি বিতরিতে পারেনি স্বয়ং দশভূজা।।
নিমেষ না যেতে তাই ফুরায়েছে প্রথম আবেশ;
উন্মীলিত বিলোচন জ্বলিয়াছে বিপ্রবলব্ধ লোভে,
অচিরাৎ সে-আগুন কামেরে করেছে ভস্মশেষ ;
অপর্না সেজেছে চন্ডী আত্মহিতে মোর উপদ্রবে ।।
কেবলই চেয়েছি আমি, ক্ষতি কভু ছোঁয়নি আমারে ;
কোনওদিন বজ্রাঘাতে সর্বস্বান্ত করেনি উর্বশী ;
মোর তারাদীপাবলী মূলাধার অমার ফুৎকারে
কখনও যায়নি নিবে, ধংসমূক হয়নি ক্রন্দসী ।।
শিখিনি কদাচ আমি কাম্য যার নিশ্চিন্ত অমরা,
অনির্বাণ কুম্ভীপাকে হতে হয় তাহারে নিখাদ ।
শুধুই জঞ্জালে তাই ভরিয়াছি প্রাণের পসরা ;
গায়ত্রী জপেছি, কিন্তু শোনা গেছে নিরর্থ নিনাদ ।।
আমার মৃত্যুর দিনে, তাই যদি অলস জিজ্ঞাসু
মাগে শবপরিচিতি, বিনা ভাষ্যে বোলো তারে,সখা,-
জগতের কোনও কাজে লাগেনি এ-অখ্যাত গতাসু,
যায়নি অনাথ ক’রে কোনও মৌন হৃদয়-অলকা।
                         ----- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

"রাঙিয়ে দিয়ে যাও,যাও গো এবার যাবার আগে, তোমার আপন রাগে ">>>>> রঙিন সুন্দরী জাফরান


"ঘুমের ভেতর প্রায় রোজই এসে দাঁড়ায় কে এক
অচিন মানুষ; চেয়ে থাকে
প্রগাঢ় আমার দিকে কিছুক্ষণ, জাফরানি-রঙ
আলখাল্লা তার
হাওয়ায় ঈষৎ কাঁপে। বাউল বলেই চিনি তাকে,
হাতে একতারা, কাঁধে ঝোলা।
অনুরোধ করি না, তবুও কণ্ঠে মধুর খেলিয়ে দেয় সুর
অবলীলক্রমে, মুগ্ধতায় স্নান করে দেহমন।
ঘুমের ভেতর স্বপ্নে নাকি বাস্তবেই
এসে যায় সে বাউল আমার নিকট,
বোঝা দায়; শুধু আমি সুর হয়ে যাই
জাফরানি-রঙ আলখাল্লা আর একতারার কম্পনে, এই
বিশ্বাসে উদাস বাউলকে কখনও সাধক গুরু,
কখনও বান্ধব বলি, কখনওবা সখা।
আজ অব্দি একটিও কথা উচ্চারণ
করেন নি তিনি,
কেবল আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন
উদার দৃষ্টিতে, সেই দৃষ্টি স্পর্শ করে
অন্তরের পাতাল আমার, কখন যে তার সুর
আমার নিজেরই সুর হয়ে
উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিমকে আলিঙ্গন করে
তা বোঝার আগেই আমার
গায়ে জাফরানি-রঙ আলখাল্লা, হাতে একতারা,-
এবং আমার দ্বৈত সত্তা নক্ষত্রসভায় নৃত্যপর শুধু।"



চিকিৎসাবিজ্ঞান, সৌন্দর্যশাস্ত্রে তিন সহস্রাব্দ ধরে জাফরান সুন্দরীর রাজত্ব চলছে। মসালা ম্যাজিক-এ তারই রূপ-গুণ বন্দনা।
ক্রুকাস স্যাটিভাস নামক ফুল থেকে জাফরানের জন্ম। খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দী থেকে জাফরানের ব্যবহার আরম্ভ হয়। প্রথম শুরু করে আসিরীয় সভ্যতা, সেই ব্রোঞ্জ যুগে।একটি গুহাচিত্রে দেখা যায়, দেবতার নির্দেশে জাফরান চাষ হচ্ছে এবং জমি থেকে জাফরান তুলে একটি মেয়ের পায়ের ক্ষতে লাগানো হচ্ছে। ক্রমশ জাফরান চাষ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়ে এর সৌরভের খ্যাতিও। 

জাফরান (ইংরেজি: saffron crocus), (বৈজ্ঞানিক নাম: Crocus sativus) হচ্ছে Crocus গণের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের প্রজাতিএটি ওজনের মধ্যে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা মূল্যবান মসলার একটি। এদের বেশির ভাগ জাফরান ই কাশ্মীরে জন্মায়। এটি গ্রিসে প্রথম চাষ করা হয়েছিল।
এদের অন্যান্য স্থানীয় নামের মধ্যে আছে saffron Za'afaran, Zaafaran Kesar, Zafran.

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাসঃ
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Liliopsida
বর্গ: Asparagales
পরিবার: Iridaceae
উপপরিবার: Crocoideae
গণ: Crocus
প্রজাতি: C. sativus
দ্বিপদী নাম : Crocus sativus
আসল জাফরান বা কুমকুম তৈরি হয় এক ধরনের পেঁয়াজের মতো ছোট গুল্মের ফুলের গর্ভকেশর থেকে। এশিয়া মাইনরের পাহাড়ি এলাকায় এর আদি বসতভূমি। প্রাচীন মিসর ও গ্রিসবাসী এর ব্যাপক ব্যবহার জানত। বিখ্যাত গ্রিক প্রজ্ঞা ও বক্ত ইসোক্রোটিস জাফরানের গুঁড়া দিয়ে বালিশ সুগন্ধি করতেন সুখনিদ্রার জন্য। ফিনিসিয়ান ও রোমানরা একে নানাভাবে ব্যবহার করত। 

এক অজানা কারণে জাফরান ফল তৈরি করতে পারে না। যার ফলে এটা বংশ বিস্তারের জন্য মানুষের সাহয্য প‌্রয়োজন হয়। ক্রোমগুলি মাত্র এক বছর পর্যন্ত বেচে থাকে এবং এর মধ্যেই এই ক্রোমগুলিকে মাটিতে রোপন করতে হয়। এই উদ্ভিদ এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে কোন বীজ তৈরি হয়না। বীজ না হবার কারন হচ্ছে এই উদ্ভিদ এর দেহে কোন মিয়োসিস কোষ বিভাজন হয়না। আমরা জানি যে শুক্রানু আর ডিম্বানু তৈরি হয় মিয়োসিস কোষ বিভাজন দ্বারা।

যেহেতু জাফরান উদ্ভিদ এর দেহে কখনই মিয়োসিস বিভাজন হয়না সেহেতু শুক্রানু ও ডিম্বানুও তৈরি হয়না। শুক্রানু আর ডিম্বানুর মিলনেই ভবিষ্যতে বীজ তৈরি হয়। এই উদ্ভিদ এ শুক্রানু আর ডিম্বানু সৃষ্টি হয়না বিধায় বীজ ও জন্মে না।  চার বছর পর পর একটি জাফরান উদ্ভিদ এর মুলে অসংখ্য টিউবার তথা বালব সৃষ্টি হয়। বালব এর অন্য নাম ক্রোম। খুব সাবধানে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা এই উদ্ভিদ এর বালব সংগ্রহ করে তা রোপন করেন যাথেকে পরবর্তীতে নতুন জাফরান এর জন্ম হয়।   এইটার বাংলা নামঃ জাফরান
জাফরানের পুষ্টিমানঃ 
Moisture:15.6% 
Starch and sugars:13.00%
Essential oil:0.6%
Fixed oil:5.63%
Fiber:4.48%
Total ash:4.27%
Nitrogen free extract:43.64%.
অটাম ক্রকাস (autumn crocus) নামের আইরিশ গোত্রেরএকটি ফুলের গর্ভদন্ড(Stigmata) থেকে উৎপাদন করা হয় জাফরান | ফুল এর যে লাল বর্নের তিনটি গর্ভ দন্ড যাকে ইংরেজিতে বলে স্টিগমা থাকে সেগুলো সংগ্রহ করে শুকিয়ে জাফরান প্রস্তুত করা হয়।  ১পাউন্ড বা ৪৫০গ্রাম শুকনো জাফরানের জন্য ৫০ থেকে ৭৫ হাজার ফুলের দরকার হয়, এক কিলোর জন্য একলক্ষ দশ থেকে একলক্ষ ৭০ হাজার ফুল, ৪০ ঘন্টা সময় লাগে ১লক্ষ ৫০ হাজার ফুল তুলতে ।
বিরিয়ানীতে রংএর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও দামি প্রসাধন সামগ্রী হিসেবে জাফরান ব্যবহার্য। প্রাচীনকালে জাফরান গায়ে মাখা হতো শরীরের সৌষ্ঠব বাড়ানোর জন্য। ত্বক এর গুণে লাবণ্যময় হয়ে ওঠে। এ ছাড়া নানা রোগেও জাফরানের বহুমাত্রিক ব্যবহার লক্ষ করা যায় ।
জাফরানী রং অনুষ্ঠানাদিতে বনেদী পোলাও,বিরিয়ানি,জর্দা,কালিয়াতে ব্যবহার করা হয়। অনেক পানবিলাসী এর পাপড়ি পানের সাথে চর্বণ করেন। জাফরানী রং বিভিন্ন হারবাল ওষুধ প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয়। এর রং নান্দনিক সাজসজ্জায় তথা  পার্লারগুলোতে মেহেদির সাথে সংমিশ্রণে মোহনীয় উজ্জ্বল রং এর উত্কর্ষ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয় । জাফরানী সরবত যে কোন অনুষ্ঠানে পরিবেশন যোগ্য।
বিশ্বের সবচাইতে দামি মসলার ফসল জাফরান ।


জানা যায়, প্রাচীন যুগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাফরানের সুগন্ধ ও উজ্জ্বল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে এর ব্যাপক প্রচলন হয়। জাফরান উদ্ভিদতত্ত্বের দিক থেকে ইরিডাসিয়া ফ্যামিলির অন্তর্গত। আরবী ভাষায় ফারান এবং ইংরেজিতে সাফরন । জাফরানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসান,কাশ্মীরের বনেদী মহল ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে এর আগমন ঘটে।

  
কাশ্মীরের জাফরান একটু লাল ও পদ্মফুল গন্ধি। এটিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাফরান বলে বিবেচিত। এছাড়া দক্ষিণ ইউরোপের জাফরান হালকা লাল আর গন্ধ অনেকটা কেয়া ফুলের মতো। এর মান মধ্যম। আর ইরানের জাফরান একটু সাদাটে ও মধুর গন্ধযুক্ত। তাই এটাকে নিন্ম মানের জাফরান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নকল জাফরানঃ

এই ফুলটার বাংলা নামঃ কুসুম
অন্যান্য স্থানীয় নামঃ Safflower, Dyers' saffron, False saffron , Kusum, Gul rang
বৈজ্ঞানিক নামঃ Carthamus tinctorius পরিবারঃ Asteraceae (Sunflower family)

এটি একটি বর্ষজীবি উদ্ভিদ । ১ - ৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
কমলা- হলুদ রংএর ফুলগুলি প্রায় ১ থেকে ১১/২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। এটা অনেক সময় জাফরানের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। পৃথিবী বহুদেশে এটাকে জাফরান নামে বিক্রি করে ঠকানো হয়। মসলা হিসাবে এটার কোন মূল্য নাই কিন্তু রং করার ক্ষমতার কারণে অনকে সময় অনেকে ধোকা খায়। 



জাফরানের উপকারিতাঃ
জাফরানে রয়েছে বিস্ময়কর রোগ নিরাময় ক্ষমতা৷
মাত্র ১ চিমটে জাফরান আপনাকে প্রায় ২০ টি শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
১।  জাফরানে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্ত চাপ ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা জনিত রোগ দূর করে।
২।  পুরুষত্বহীনতা, অকাল বীর্যপাত ও লিঙ্গ উথান সমস্যা দূর করে সুস্থ যৌনজীবন দেয় জাফরান৷
৩।  হজমে সমস্যা এবং হজম সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে জাফরান।
৪।  জাফরানের পটাশিয়াম আমাদের দেহে নতুন কোষ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
৫।  জাফরানের নানা উপাদান আমাদের মস্তিষ্ককে রিলাক্স করতে সহায়তা করে, এতে করে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷
৬।  মেয়েদের মাসিকের অস্বস্তিকর ব্যথা এবং মাসিক শুরুর আগের অস্বস্তি দূর করতে জাফরানের জুড়ি নেই।
৭।  নিয়মিত জাফরান সেবনে শ্বাস প্রশ্বাসের নানা ধরণের সমস্যা যেমন অ্যাজমা, পারটুসিস, কাশি এবং বসে যাওয়া কফ দূর করতে সহায়তা করে।
৮।  জাফরানের ক্রোসিন নামক উপাদানটি অতিরিক্ত জ্বর কমাতে সহায়তা করে।
৯।  জাফরানের রয়েছে অনিদ্রা সমস্যা দূর করার জাদুকরী ক্ষমতা। ঘুমোতে যাওয়ার আগে গরম দুধে সামান্য জাফরান মিশিয়ে পান করলে অনিদ্রা সমস্যা দূর হবে।
১০।  সামান্য একটু জাফরান নিয়ে মাড়িতে ম্যাসেজ করলে মাড়ি, দাঁত এবং জিহ্বার নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব৷
১১।  গবেষণায় দেখা যায় জাফরান দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে এবং চোখের ছানি পড়া সমস্যা প্রতিরোধে কাজ করে৷
১২।  জাফরানের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান বাতের ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা এবং দুর্বলতা দূর করতে অব্যর্থ ঔষুধ৷
১৩।  অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে সামান্য একটু খানি জাফরান৷
১৪।  জাফরানের ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে৷
১৫।  জাফরান দেহের কলেস্টোরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। 


১৬।  মস্তিস্কের গঠন উন্নত করতে জাফরানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাফরান স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তা ক্ষমতা উন্নত করে৷ এছাড়াও আলজাইমার এবং পার্কিনসন রোগ থেকে দূরে রেখে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে বাঁচায়৷
১৭।  কিডনি, যকৃৎ এবং মুত্রথলির রোগ থেকে মুক্তি দেয় জাফরান৷
১৮।  যষ্ঠিমধু এবং দুধের সঙ্গে জাফরান মিশিয়ে মাথায় লাগালে চুল পড়া বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে৷
১৯।  টিউমারের রোধ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে৷
২০।  ত্বকে ঔজ্বল্য বাড়ায় এবং বলিরেখা দূর করতে সহায়তা করে৷
২১। সূর্যের অতিরিক্ত তাপে ত্বকের ওপর যে ছোপ ছোপ দাগ হয়, জাফরান মিশ্রিত দুধ প্রতি দিন লাগালে তা দূর হয়ে যায়, দেহবর্ণে ক্রমশ হলুদ আভা দেখা যায়।
২২। জাফরানে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্ত চাপ ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা জনিত রোগ দূর করে।
২৩। জাফরান এছাড়াও যুগ্ম যন্ত্রনা থেকে ত্রাণ প্রদান করে ।  এটি টিস্যু শ্রমসাধ্য ব্যায়াম পর নির্মিত যা পায় ল্যাকটিক অ্যাসিড পরিত্রাণ পেতে সাহায্য ক্লান্তি এবং পেশী প্রদাহ eases হিসাবে এটি ক্রীড়াবিদ জন্য খুব সহায়ক হবে ।
২৪। টাক সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের  জন্য জাফরান খুবই উপকারী।
২৫। জাফরানে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন, যা আপনাকে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

রূপচর্চায় জাফরানঃ
মাস্ক: এবার হচ্ছে আসল কাজ; হোয়াইটেনিং মাস্কের ব্যবহার। আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন জাফরানের উপকারী দিক সমূহ। তাহলে এটাও জেনে থাকবেন যে জাফরানে আছে হোয়াইটেনিং প্রোপার্টি, যা ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
উপকরণঃ
১।  ৫-৬ টা জাফরানের আঁশ
২।  ১/২ কাপ টক দই/দুধ/দুধের সর
৩।  ২-৩ টা গোলাপের পাপড়ি,
৪।  ১ টেবিল চামচ চন্দন/মুলতানি মাটি/নিমের(স্পর্শকাতর ত্বক হলে) গুঁড়ো ,
৫।  ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল ।

প্রস্তুত প্রণালীঃ
জাফরান গুলো তরল দুধে ২-৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন; যতক্ষণ না এর রঙ হলুদাভ হয়। এবার গোলাপের পাপড়িগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর পাপড়িগুলোর পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার একে একে দুধ-জাফরান, গোলাপ পেস্ট, মুলতানি গোলাপ জলে গুলিয়ে রাখুন। সুন্দর পেস্ট তৈরি হয়ে গেলে মুখের ত্বকে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কলের ঠান্ডা জলে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
জাফরানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ
রোগ নিরাময়ের সময়ে, জাফরানের যথাযথ পরিমাণ জানা না থাকলে বিপদ হতে পারে। বমি, মাথাব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, এ সব তো আছেই, এমনকী নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়া, ত্বক ও চোখের রং খুব দ্রুত হলদে হয়ে যাওয়া এই ধরনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী মায়েদের জন্য জাফরান একেবারেই নিষিদ্ধ। 


 বিকেলের শেষ আলোয় চেয়ে দেখি কমলা রঙের নরম রোদ ছুঁয়েছে আকাশ। বির্সজনের অপেক্ষায় দিনের ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছে তার মনের না বলা কথা। মিলনের রং রাঙিয়ে দিয়েছে পাখিদের ঠোঁটে, ধুসর রঙের ঠোঁটে লেগেছে তাই জাফরানী রং। সেদিন অবাক চোখে দেখেছি আমি কালো রঙয়ের ঠোঁটগুলো তার অন্ধকার কে ছুঁড়ে ফেলে জাফরানী রং ধারণ করেছে। ধূসর রঙের পাখনাগুলো হয়েছে হাল্কা রঙয়ের জাফরান শাবক। অবাক চোখকে আরো অবাক করে দেখলাম আমি ঝাউগাছের নরম ডালে দুটি পাখি উড়ে এসে পাশাপাশি বসে রইল অনেকক্ষণ, একজন আরেকজন থেকে মুখ ফিরিয়ে। নি:শ্চুপ, শব্দহীন। আড়চোখে চেয়ে থাকা। শুধু থেকে থেকে ডানা ঝাপটানোর খসখসানি। যেন এই নীরবতায় বুকের ধ্বকধ্বকানি বেড়িয়ে না পড়ে। কত কাছাকাছি, অথচ কতটা দূরে। এই স্বেচ্ছা নীরবতায় কথা নেই, বোঝানোর ব্যথা নেই, তবুও জানে পাশে আছে। ক্যামেরাটা অন করতেই উড়ে চলে গেল।তারপর প্রায় প্রতিদিনই দেখেছি আমি পাখিদুটো উড়ে এসে বসে সেই একই গাছে, পাশাপাশি বসে থাকে । কেউ কারো সাথে কথা বলে না। তারপর একসময় বিদায় জানিয়ে চলে যায়। কি অদ্ভূত........ ভাবলাম এই পার্থিব জীবনে কেউই কারো নয়।প্রতিটি মানুষই স্বতন্ত্র, নিজের পৃথিবীতে সে সবসময়ই একা,সত্যই একেবারেই একা,...........................।