মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬

গ্লাডিওলাস

ওঙ্কার ধামে ফোটা গ্লাডিওলাস ফুল,ফটো :-তিতলি 


গ্লাডিওলাস ফুল ইদানিংকালে আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এর ইংরেজি নাম Sword lily ও বৈজ্ঞনিক নাম Gladiolus sp. গ্লাডিওলাস ফুল কমবেশি সারাবছরই আমাদের দেশে উৎপাদন করা হয়। গ্লাডিওলাস ফুল বিভিন্ন রঙ- এর হয়ে থাকে। যেমন-সাদা, হলুদ, গোলাপী, লাল, ফিকে লাল, বেগুনী ইত্যাদি।  যে কোনো উৎসবে এই ফুলের উপস্থিতি দেখা যায়। টিনা, পুনম, ফ্রেন্ডশিপ, হোয়াইট ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন প্রজাতির গ্গ্ন্যাডিওলাস ফুল রয়েছে।  বেশি জৈব পদার্থযুক্ত মাটিই গ্লাডিওলাস ফুল চাষের জন্য ভালো। যে জমিতে এই ফুল চাষ করা হবে তাতে যেন জল  নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এই ফুলের চারা সাধারণত কন্দ থেকে তৈরি হয়। কন্দ লাগানোর আগে জমি ভালো করে তৈরি করে নিতে হবে। কন্দের আকৃতির ওপর সাধারণত নির্ভর করে ফুলের আকার ও আকৃতি।  ফুল সংগ্রহ : এগাছ থেকে ফুল ৭০-৯০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। দুপুরে গাছ থেকে ফুল তোলা যাবে না।
foto:-Anirban Mukherjee
  
গ্গ্ন্যাডিওলাস ফুলের চাহিদা প্রচুর। বংশবিস্তার ১. বীজ, গুঁড়ি কন্দ ও গুঁড়ি কন্দের গায়ে জন্মানো ছোট ছোট কন্দ থেকে গ্লাডিওলাসের বংশবিস্তার করা যায়। ২. বীজ থেকে তৈরি চারাতে ফুল আসতে অনেক সময় লাগে এবং জাতিগত বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে না। তাই বীজ দিয়ে সাধারণত বংশবিস্তার করা হয় না। ৩. ফুল দেয়া শেষ হলে গাছ শুকিয়ে যায়। এ সময় মাটি খুঁড়ে গ্লাডিওলাসের কন্দ তুলে নিয়ে এর গায়ে জন্মানো ছোট কন্দগুলো আলাদা করে নিতে হবে। ৪. এর কন্দগুলোর গায়ে লেগে থাকা মাটি পরিষ্কার করে নিয়ে কন্দগুলো ছায়াযুক্ত জায়গায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। ৫. শুকানোর পর কন্দগুলো কিছুটা অন্ধকার শুকানো জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। ৬. এগুলো সুপ্ত অবস্থা অতিক্রম করে গজানো শুরু করলে নতুন ফুল গাছের জন্য মাটিতে রোপণ করতে হবে।
ডাক্তার বাগানের গ্লাডিওলাস ফুল,ফটো:-ইন্দ্রজিৎ ব্যানার্জী 


আমাদের ওঙ্কার ধামের কাছেই আছে ডাঃ ব্যানার্জীর বাগান ও নার্সারী,যা এলাকায় ডাক্তার বাগান নামে পরিচিত।  এনারা প্রায় তিন পুরুষ ধরে গ্লাডিওলাসের চাষ করে আসছেন। বাগানের বর্তমান কর্ণধার ইন্দ্রজিৎ ব্যানার্জী (মন্টুদা) আমার অগ্রজপ্রতিম। 
আমি প্রতি বছরই বাগানে শখ করে গ্লাডিওলাস লাগাই, এই ফুল মনের বড়োই শান্তি দেয়।

সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৬

সুন্দরী জার্বেরা

তোর প্রিয় ফুলের সাথে ভালো থাকিস মা

  সুন্দরী জার্বেরা  Gerbera হচ্ছে এস্টারেসি (ডেইজি পরিবারের) একটি গণের উদ্ভিদের নাম। জার্মান পরিবেশবিদ ট্রাগোট জরবার প্রথম এই ফুলের গণটির অস্তিত্ব আবিস্কার করেন বলে তার নামানুসারেই ফুলটির এরকম নামকরণ হয়েছে | (১৭১০-১৭৪৩) যিনি রাশিয়া ভ্রমণ করেন এবং কার্ল লিনিয়াসের বন্ধু ছিলেন।
এই মূহুর্তে সারাবিশ্বের ফুলের বাজারে চাহিদার তুঙ্গে যে ফুলগুলো রয়েছে তারমধ্যে জার্বেরা অন্যতম। এজন্যই দিন দিন  সারা বিশ্বেই জার্বেরার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জার্বেরা বহুবর্ষজীবী বীরুৎশ্রেণির একটি উদ্ভিদ। মাটি, স্থান, খাদ্য ও পরিচর্যা ভেদে এর উচ্চতা প্রায় ৩০-৫০ সে.মি.পর্যন্ত হতে পারে। এই গাছ দেখতে গুচ্ছাকার বা ঝোপালো ধরনের হয়ে থাকে। এর প্রত্যেকটি কাণ্ডের অগ্রভাগে ফুল ফোটে। ফুল লাল, হলুদ, সাদা কমলা ও গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। সাধারণত সারা বছরই অল্প পরিমাণ ফুল ফুটলেও এপ্রিল-মে মাসে বেশি ফুল ফোটে।
জার্বেরা সব ধরনের জলবায়ুতেই কমবেশি জন্মায়। তবে উজ্জ্বল সূর্যের আলো যুক্ত স্থানে লাগালে জার্বেরা গাছ খুব ভালো হয় ও এর ফুলও মানসম্মত হয়। আমাদের দেশে শীতকালে ও শীতের শেষের দিকে এর চাষাবাদ বেশি হতে দেখা যায়। যে কোন উৎসবে মেয়েরা   খোঁপায় জার্বেরা  দিলে  সাজ ও সৌন্দর্য্যে একটা অন্য মাত্রা যোগ হয়। জার্বেরার ৪০টির বেশি প্রজাতি রয়েছে।

বংশবিস্তারের জন্য জার্বেরা গাছের মুল,শিকড় ও মূলসহ কাণ্ড আলাদা করে গাছের সংখ্যা বাড়ানো যায়। আবার এর বীজ রোপণ করেও বংশবিস্তার ঘটানো যায়।লেখা পড়তে পড়তে যদি কারো খোঁপায়  জার্বেরা  নেবার  শখ জাগে  তবে সেই দায় কিন্তু আমার না। তাদের প্রতি পরামর্শ বাড়িতে  বা টবে অন্তত একটি জার্বেরা গাছ লাগান,ফুল ফুটলে প্রাণ ভরে যাবে, গ্যারান্টি দিলাম ।

ধুতরো ফুল

  "আমি চাই তাঁরে
আমারে দিলেন যিনি সেবিকার সন্মান,
ঝরে-পড়া ধুতরো ফুল
ধুলো হতে তুলে নিলেন যিনি দক্ষিণ করে ।
ওগো প্রভু, ওগো প্রভু,
সেই ফুলে মালা গাঁথো,
পরো পরো আপন গলায়,
ব্যর্থ হতে তারে দিয়ো না দিয়ো না ।"


ধুতরো একটি ভেষজ উদ্ভিদ
ধুতরো বা ধুতরা নামে এ গাছটি আমাদের দেশে সবার কাছে পরিচিত। যার ইংরেজী নাম: Datura, Jimsonweed, Stinkweed, Madapple, Thornapple, Stramonium, উদ্ভিদ তাত্ত্বিক নাম : Datura Stramonium, গোত্র- Soalanaceae, গাছ ঝাড় বিশিষ্ট আকারের, উচ্চতায় প্রায়- ১ মিটারের মতো হয়ে থাকে, পাতা বড়, আকার আকৃতি, ত্রিকোণাকৃতির, রঙ সবুজ, শিরা ও মধ্যশিরা স্পষ্ট। ধুতরো গাছের দু’টি প্রজাতি আমাদের দেশে জন্মাতে চোখে পড়ে। সাদা রঙের ধুতরো ও কালো রঙের ধুতরো। সাদা রঙের ধুতরো এর বোঁটা, পাতা ও গাছ হালকা সবুজ রঙের হয় এবং কালো রঙের ধুতরো গাছের পাতার বোঁটা ও গাছ বেগুনি মিশ্র রঙের হয়। কোনো কোনো মানুষের সাথে ধুতরো গাছটির সরাসরি পরিচয় না থাকলেও প্রায় মানুষের কাছে ধুতরো গাছটি যেন বিপদ জনক এক উদ্ভিদ। কারণ হিসেবে ধুতরো গাছের বিভিন্ন অংশে থাকা ভেষজ গুণাগুণ যা অতি মাত্রায় ব্যবহার বা দুষ্কৃতভাবে তার অপব্যবহার। সত্যিকার অর্থে ধুতরো গাছের পাতা, ফুল, ফল, বীজ ভেষজ গুণাগুণ সম্পন্ন এক উদ্ভিদ। গাছের ব্যবহার্য অংশ আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও হেকিমী শাস্ত্রবিদগণ যুগ-যুগ ধরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করে আসছেন। তবে এর সঠিক ব্যবহার ও মাত্রার উপর যতœবান থাকলে কোন ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটে না, বরং বয়ে আনে সুফল। ধুতরো গাছের পাতায় যে ভেষজ উপাদান পাওয়া যায় তা হলো- হ্যায়োস্যামাইন, বেলডোনা ও হেনবেন। ধুতরো ব্রংকাইটিস, হাঁপানী রোগের ঔষধ, অনিদ্রা দূর করে, মুখের লালাক্ষরণ দূর করে, স্তনের ব্যাথা ও শরীরের অন্যান্য স্থানের ব্যাথা সারাতে ব্যবহৃত হয় ধুতরো । বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় অযতেœ-অবহেলার মাঝেও ধুতরো গাছ জন্মাতে দেখা যায়। এমনকি ২৫০০ মিটার উচ্চতার পাহাড়েও ধুতরো গাছ জন্মাতে সক্ষম। তবে এ গাছটি বর্তমান সময়ে ধীরে ধীরে বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে, আগেকার মতো তেমন চোখে পড়ে না। সাধারণত ভিজে স্যাঁত স্যেতে মাটিতে এ গাছ জন্মাতে বেশী দেখা যায়। তাছাড়া আবর্জনা পঁচা তুপের ধার, রাস্তার ধার, পতিত জমি, বন জঙ্গল, নদীর ধারে, ভেষজ বাগানে ও প্রায় সব ধরণের মাটিতে ধুতরো গাছ জন্মাতে চোখে পড়ে।

ভেষজ গুণাগুণের পাশাপাশি ধুতরো গাছের ফুলের সৌন্দর্য অত্যান্ত আকর্ষণীয় ও মনোরম। ফুলের বাহারী সৌন্দর্যের জন্য অনেকেই বাগানে ধুতরো গাছ রোপন করে থাকেন। বর্ষাকালে ধুতরো গাছে ফুল ধরে, বর্ষার শেষ থেকে শরতের প্রথম অংশ জুড়ে গাছে ফুল ফুটতে দেখা যায়। গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ধরে, ফুল দেখতে লম্বাকৃতির, সাদা জাতের ধুতরোর গাছে সাদা রঙের ফুল এবং কালো জাতের ধুতরোর সাদা-বেগুনী মিশ্র রঙের উর্ধ্বমুখী ফুল। ফুলে মৃদু সুগন্ধ আছে, পড়ন্ত বিকেল থেকে সন্ধ্যায় গাছে ফুল ফুটে। দিনে রোদের আলোয় ফুল সংকুচিত হয়ে যায়, সন্ধ্যায় পুনরায় পাপড়ি মেলে। এভাবে ফুটন্ত ফুল ২-৩ দিন তাজা থেকে ঝরে যায়। ফুলের গঠন বৃতির উপর একই পাপড়িতে পাঁচটি অংশে বিভক্ত পাপড়ি ও উক্ত পাপড়ির ভিতর হতে আরো এমন একটি পাপড়ি সজ্জিত অবস্থায় থাকে। ধুতরো স্ব-পরাগায়িত ফুল, ফুলের ভিতর পুংদন্ড ও গর্ভমুন্ড অবস্থিত। ফুল শেষে গাছে ফল হয়, ফল গোলাকার, ফলের গায়ে ছোট-ছোট কাটায় ভরা থাকে। কচি ফল প্রথমে সবুজ ও পরিপক্ক ফলের রঙ খায়েরী বর্ণের হয়। ফল পাঁকলে চারটি প্রকোষ্টে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলের ভিতর বীজ হয়, বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার ঘটে।



   লাভা..লগ হাটের উঠোনে..চেয়ারে বসে রোদ পোহাচ্ছি..আলোর আলপনা..সামনে-পিছনে আকাশ-চাওয়া ধূপীবনের আলোছায়া...একটি পথ নেমে গেছে আবছা পাহাড়ের দিকে..অন্তরে বেজে ওঠে '  কার মিলন চাও বিরহী–
         তাঁহারে কোথা খুঁজিছ ভব-অরণ্যে
         কুটিল জটিল গহনে শান্তিসুখহীন ওরে মন॥'...
  
  সুন্তালেখোলা'..পথের একটু উপরে নিঃসঙ্গ দুটি কটেজ..বিকেলবেলার নরম আলোর বারান্দা...পথ দিয়ে গরুবা ঘন্টা বাজিয়ে ঘরে ফিরছে..যোগ দিয়েছে ঝিঁঝিরাও....উদাস মেঘলা মন গেয়ে উঠল..'দিন অবসান হল/আমার আঁখি হতে অস্তরবির আলোর আড়াল তোলো..'
  জলঢাকা..বাংলোর পাশেই অবিরাম জলতরঙ্গ..পাথরে কত নকশা কাটছে জলের হিজিবিজি ধারা...দূরে ঘুম-ঘুম পাহাড়..পাতারা ভেসে বেড়াচ্ছে এলোমেলো...পাখিরা ইতিউতি..একটি বেড়ালছানা পায়েপায়ে ঘুরছে...' আকাশ বোঝে আনন্দ তার, বোঝে নিশার নীরব তারা..'
  দক্ষিণ সিকিম...টেমি চা বাগান..রিসর্টের বারান্দায়..বাগানের শ্যামলিমায় মিশছে মুক্তোর মত বৃষ্টি...চৌরাশিয়া-শিবকুমারের 'walking in the rain'শেষ ..ভিজে আমেজে সবুজের দিকে চেয়ে 'শুধু অকারণ পুলকে'.....'ওগো, নির্জনে বকুলশাখায় দোলায় কে আজি দুলিছে, দোদুল দুলিছে।'
   পশ্চিম সিকিম..কালুক..কটেজের হলের ডিভান থেকে দেখি..একঝাড় নীল-বেগুনী ধুতরো ফুল জানালার কাঁচ ভেঙে আমার কাছে আসতে চাইছে..দূরের সাদা পাহাড় আমাকে বাইরে ডাকছে..'আকাশ জুড়ে শুনিনু ওই বাজে  তোমারি নাম সকল তারার মাঝে'...চারিদিকে 'ঝরছে জগৎ ঝরনাধারার মতো..'
   উত্তর সিকিম..তিনচুলে..আদিম অরণ্যের মাঝে কেশবরণ পথ...নিশ্চল শান্তি।..শিশিরে ভিজছি।..গাছের পাতা ও মেঘ-কুয়াশার কোলাজ।..'আজ কি ঘুচিল চিহ্ন তাহার, উঠিল বনের তৃণ ॥'....

বিশল্যকরণী

"আর ঠিক তেমনি ,তোমার বুকের ঠিক মাঝখানটাতে ,
    শিরশিরিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে যন্ত্রণার যে বিষ-পোকাগুলো
        আমার শক্ত আঙুলের ফাঁকে ,তীক্ষ্ণ নখের পরে ,
            একটা একটা করে টিপে মারার জন্য যদি বলতে ,..........
সমুদ্র তোলপাড় করে, পাহাড়ের চুড়ো ডিঙিয়ে ,অরণ্যের বেড়া ভেঙে
    সেই বিশল্যকরণী -লতা ঠিক নিয়ে এসে ,
        পাতাগুলি তোমার পায়ে ঠেকিয়ে বলতাম,...
            এই দ্যাখো,......তুমি চাইলে কি না দিতে পারি আমি ,.....




 বিশল্যকরণী বি. (রামা.) শল্য-উন্মোচন ও ব্যথানিবারণের ওষুধরূপে বর্ণিত লতাবিশেষ।বানর বা ভল্লুক পুজকদের চিকিৎসা যে বেশ উন্নত তাও বাল্মিকীর রচনায় পাওয়া যায়।  রাম এবং লক্ষণের জন্য আনা বিশল্যকরণীর জ্ঞান এদের ছিল। কিন্তু বালিকে বিশ্বাসঘাতকতা করে সুগ্রীবের সাহায্যে রাম হত্যা করার পর থেকে সুগ্রীব শাসনের জন্য নিজেদের চিকিৎসক এই জরা গোষ্ঠীকে দমন করে।  রাজা বালির অনুরাগী ছিল এই গোষ্ঠী।  সেই জন্যই 'রামায়ণ' কাহিনী নির্মাণের সময়েও মহাকবি বাল্মিকীকে খেয়াল রাখতে হয় যে হনুমান চিনবে না বিশল্যকরণী।  বহু গাছ-পাতা তুলে আনতে হয় হিমালয় থেকে রাম-লক্ষণের চিকিৎসায়।  চারটি বিশেষ বৃক্ষ ছিল।  মৃত-সঞ্জীবনী,  বিশল্যকরণী,  সুবর্ণকরণী ও সন্ধানী।  মৃত সঞ্জীবনী মৃতকে প্রাণ দিতে পারে।  বিশল্যকরণী পারে অস্ত্রের ঘা সারিয়ে তুলতে।  সুবর্ণকরণীর পক্ষে সম্ভব অসুস্থতায় রং পাল্টে যাওয়া শরীরের রং ফেরানো।  আর কাটা অঙ্গ জোড়া বা ভাঙা হাড় জোড়ার কাজ করে সন্ধানী।  সে বৃক্ষের সন্ধান শুধু জানা ছিল হিমালয়নিবাসী রিক্ষরাজ জাম্বোবানের।  কথিত যে দেবতাদের থেকে অমৃত-মন্থনের সময় জাম্বোবান জেনেছিলেন এই বিশল্যকরণীর কথা।


"হয়তো বা মনে নেই ... না কি তুমি খেয়ালই করনি, এই বনে সমস্ত রেখেছ, মন্দার পারিজাত অশোক বকুল... শুধু নেই বিশল্যকরণী আমি তোর অনিবার্য জন্মজলে ভেসে যাওয়া ভ্রূণ অপ্রতিভ শব্দহীন আর্তনাদে ঝরে পড়া অরণ্যপ্রসূন! অসতর্ক ভ্রূণঘাতী সফরের পরে... প্রতিদিন ঢুকে যাই সারোগেট জননীজঠরে। প্রাণরস, মায়াময় অমরার কাছে... বিশল্যকরণী খুঁজি... এ অরণ্যে আনাচে কানাচে... আমাকে রেখেছে বাজি... কিতবের পাশা... ঘনশ্বাস ওঠাপড়া... কি জানি কে জেতে... বিলাসী অক্ষ ছিটকে পড়েছে মেঝেতে... এত জল... এত জল... তবু কেন এমন পিপাসা... অসময়ে বন্যা এসে ভাসিয়েছে সময়সরণি ভেসে গেছে স্বপ্নে দেখা প্রাণগুল্ম... বিশল্যকরণী... আপাততঃ বন্ধ রাখি ভাসানের ধারাবিবরণী। ঋত্বিকেরা সমবেত, ক্ষিতি স্থির বায়ু স্থির, যজ্ঞভূমি আগ্রহে অধীর... অরণ্য স্তব্ধবাক... হয়তো বা কিছুটা বধির... এরপর যা যা ঘটবে... ভেবে নিতে নেই অসুবিধে... আমাকে মিশিয়ে দিবি যজ্ঞকুন্ডে পবিত্র সমিধে। জ্বলবে অরণি... আগেই তো জেনে গেছি... তোর বনে নেই মাগো... বিশল্যকরণী..."

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬

"চারিদিকে বাংলার ধানী শাড়ি- শাদা শাঁখা- বাংলার ঘাস
আকন্দ বাসকলতা ঘেরা এক নীল মঠ- আপনার মনে
ভাঙিতেছে ধীরে-ধীরে;- চারিদিকে এই সব আশ্বর্য উচ্ছ্বাস!"
~জীবনানন্দ দাশ
"...মাছরাঙাটির সাথী ম’রে গেছে- দুপুরের নিঃসঙ্গ বাতাসে
তবু ঐ পাখিটির নীল লাল কমলা রঙের ডানা স্ফুট হ’য়ে ভাসে
আম জাম জামরুলে প্রসন্ন প্রাণের স্রোত- অশ্রু নাই- প্রশ্ন নাই কিছু,
ঝিলমিল ডানা নিয়ে উড়ে যায় আকাশের থেকে দূর আকাশের পিছু;
চে’য়ে দেখি ঘুম নাই- অশ্রু নাই- প্রশ্ন নাই বটফলগন্ধ-মাখা ঘাসে।"
                                                                                    ~জীবনানন্দ দাশ



"Do not linger to gather flowers to keep them, but walk on, for flowers will keep themselves blooming all your way."
~Rabindranath Tagore

"পথ বেয়ে তুই এগিয়ে যা রে
ফুল ছিঁড়তে থামিস্ না রে।
দেখবি তবে ফুলগুলি সব
আলোকমালার দ্যুলোক সাজে
বিছিয়ে আছে পথের ধারে।"